• সোম. জুলা ১৩, ২০২৬

বন্ধুকে দীঘির পানিতে চুবিয়ে হত্যা: ২৬ দিন পর গ্রেফতার

ByShirso aparadh

জুলা ১২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | গাইবান্ধা

গাইবান্ধা সদর উপজেলার হরিণসিংহা দীঘিতে গোসল করতে গিয়ে কিশোর রায়হান প্রধান (১৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‌্যাব-১৩। ঘটনার ২৬ দিন পর রাজধানী ঢাকার পৃথক দুই এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি—মো. সাকিব মিয়া (১৮) ও মো. রিফাদ মিয়াকে (১৬) গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেফতার সাকিব মিয়া গাইবান্ধা সদর উপজেলার জবান আলীর ছেলে এবং রিফাদ মিয়া সাইদুল ইসলামের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

তুচ্ছ বিরোধ থেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড

র‌্যাব জানায়, গত ১৬ জুন বিকেলে রায়হান প্রধানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার দুই বন্ধু সাকিব ও রিফাদ। তিনজন একসঙ্গে সদর উপজেলার হরিণসিংহা দীঘিতে গোসল করতে যায়। গোসলের সময় তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাদ মিলে রায়হানকে মারধর করে পানিতে চুবিয়ে ধরে রাখে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় রায়হান অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দীঘির পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা হিরা মিয়া পরে রায়হানকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তদের স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

বাবার মামলা, শুরু হয় অভিযান

ঘটনার তিন দিন পর, ১৯ জুন নিহত রায়হানের বাবা মো. মকবুল হোসেন গাইবান্ধা সদর থানায় দুইজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়।

মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় র‌্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে।

ঢাকার দুই এলাকা থেকে গ্রেফতার

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে সাকিব মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই রাতে রাত ১১টার দিকে বিমানবন্দর থানাধীন সেন্টার পয়েন্ট শপিং মলের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয় রিফাদ মিয়াকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাইবান্ধা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাবের বক্তব্য

র‌্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, “গ্রেফতার দুই আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে র‌্যাবের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এখনই দেখুন

Verified by MonsterInsights