
দৈনিক শীর্ষ অপরাধ, অনলাইন ডেস্ক ||
পাবনায় স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন হত্যার জেরে প্রধান আসামি নাঈমের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে তারা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গতকাল সোমবার (৮ জুন) বিকেলে একজন এবং আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে অন্য দুজনের মৃত্যু হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন— পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম সাব্বির, একই এলাকার সাবু এবং পূর্ব রাঘবপুর এলাকার বাসিন্দা সুমন শেখ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা ঘটনার সময় প্রতিবেশি ও উৎসুক জনতা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের সঙ্গে স্কুলছাত্রী রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২ জুন সকালে নাঈমের বাড়িতে রিয়ার সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পাষণ্ড নাঈম। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে দুই বন্ধুর সহায়তায় মরদেহ একটি প্রাইভেটকারে করে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর এলাকার পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন ৩ জুন নদী থেকে রিয়ার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত নাঈম ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রতিবাদের আগুনে নতুন ট্র্যাজেডি:
গত ৪ জুন নিহত স্কুলছাত্রী রিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতা প্রধান আসামি নাঈমের বাড়িতে চড়াও হয় এবং অগ্নিসংযোগ করে। সে সময় নাঈমের পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকলেও, আগুন দেওয়ার পর ঘরের ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আগুন নেভাতে আসা প্রতিবেশি ও উৎসুক জনতার বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হন।
আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ও মঙ্গলবার মিলিয়ে মোট তিনজনের মৃত্যু হলো।
পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামিরা ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে। আর অগ্নিসংযোগে নিহতের ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
