• মঙ্গল. সেপ্টে ৮, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

পরীক্ষা কেলেঙ্কারি ঘিরে উত্তাল দিল্লি, মোদির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র

BySarker

জুলা ২৩, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। প্রথমে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হলেও, এখন তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে।

বুধবার রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজারো আন্দোলনকারীর সমাগম ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে চলমান এ আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আন্দোলনের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার জবাবদিহি না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলন দেশের তরুণদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার ভারতের বিরোধী দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার পর আন্দোলন আরও বেগ পায়। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে সরকারের কাছে ক্ষমা দাবি করেন। পরে তাকে প্রতিবাদস্থল থেকে আটক করে কয়েক ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। বুধবার তিনি কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হয়ে সরকারের জবাবদিহি দাবি করেন।

সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত এমন একটি বিষয়ে সরকারের নীরবতা উদ্বেগজনক।

আন্দোলনের পটভূমি

গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানিতে কিছু তরুণকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন বলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গড়ে ওঠে। পরে সংগঠনটি বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা খাতের অনিয়ম এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনে বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এ ঘটনায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অন্যান্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শিক্ষার্থীরা জবাবদিহি, কার্যকর সংস্কার ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ পাওয়ার অধিকার রাখে।

বর্তমানে দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

By Sarker

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights