নিজস্ব প্রতিবেদক
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার অ্যান্ড এক্সামিনার) মো. আবুল বাশারের লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) “সি” ক্যাটাগরির কাউন্সিল নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ উপলক্ষে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা লন্ডনে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালকের সরাসরি সুপারিশ ছাড়াই মো. আবুল বাশারকে এ সফরদলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে পূর্বে পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত একটি বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এছাড়াও কিছু ঠিকাদারের বিল পরিশোধ, কার্যাদেশ দেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের আরেক কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার অ্যান্ড এক্সামিনার ওবায়দুল্লাহ ইবনে বশিরও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি ১৮ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করবেন। বাকি সদস্যরা ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন।
অন্যদিকে, নৌবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলমের সফর নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। নৌ-খাত সংশ্লিষ্ট কিছু মহলের মতে, বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোয় তার প্রভাব এখনো দৃশ্যমান।
আরো জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, নৌযান সার্ভে, রেজিস্ট্রেশন ও প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের অগ্রগতি হয়নি। ফলে দপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মো. আবুল বাশারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে। এ বিষয়ে তারা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
