
আবদুল আহাদ হোসেন | স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আবু রায়হান রিপন (৩৫) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ। দস্যুতা ও ডাকাতির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে রিপনকে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জানুয়ারি রাতে গাজীপুরের বাসন এলাকার ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হন আবু রায়হান রিপন। নিখোঁজের পরদিন রূপগঞ্জ থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান এলাকায় কাঞ্চন-কালীগঞ্জ হাইওয়ের পাশ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ লাল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই-এর সফল অভিযান, মামলাটি পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে। পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে ও নারায়ণগঞ্জ পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদের নির্দেশনায় এসআই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম গত ১৭ জানুয়ারি গাজীপুরের গাছা ও শ্রীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ রুহুল আমীন (৩৯) এবং মোঃ বেলাল ওরফে বিল্লাল হোসেন ওরফে মানিক মিয়া (৪১)। চাঞ্চল্যকর তথ্য ও স্বীকারোক্তি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা খুনের দায় স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে। তারা জানায়, ভিকটিম রিপন ও ঘাতকরা পরস্পর সহযোগী ছিল। ডাকাতি ও দস্যুতার মাধ্যমে অর্জিত টাকার ভাগাভাগি নিয়ে রিপনের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ তৈরি হয়। এই বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ হাইওয়ের পাশে ফেলে যায় তারা।আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামী বেলাল হোসেন জানান, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫-২০টি ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা রয়েছে।পিবিআই জানিয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
