
নিজস্ব প্রতিবেদক
চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা ৩০ বাংলাদেশির একজন রাজন হোসেন উদ্ধার হওয়ার পর দেশে ফিরছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে রাশিয়া থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
রাশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজনের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন হওয়ার পর তার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়। উদ্ধার হওয়ার পর থেকে প্রত্যাবাসনের পুরো প্রক্রিয়াটি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, রাজন হোসেন ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাশিয়া থেকে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা হয়ে বাংলাদেশে ফিরবেন। রোববার (২৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘রাজন অন দ্য গো-বাংলা’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে তিনি আহতও হয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।
জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ৩০ জন কর্মী রাশিয়ায় যান। এসব কর্মীর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার পর তাদের জোর করে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজে পাঠানো হয়।
গত ৯ জুলাই সংসদে তৎকালীন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ওই ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে গত ১ জুন আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) ও টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫) নামের তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে তাদের জামানতও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজনের দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে রাশিয়ায় যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে অন্তত একজনের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হলো।
