• রবি. জুন ১৪, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণবিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ও ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার, তিন নারী গ্রেফতার

Byadmin

ডিসে. ২৭, ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ তরল রাসায়নিক ও ককটেল সদৃশ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটনার মূল সন্দেহভাজন শেখ আলামিন এখনও পলাতক রয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাদ্রাসা পরিচালকের স্ত্রী আসিয়া ও তাদের তিন সন্তান।
তিনি বলেন, “বিস্ফোরণের পরপরই এন্টি টেরোরিজম ইউনিটকে অবহিত করা হয় এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলকে ক্রাইম সিন হিসেবে চিহ্নিত করে তদন্ত শুরু করে।”
তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি ল্যাপটপ, দুটি মনিটর, বিভিন্ন ধরনের লিকুইড রাসায়নিক এবং চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কন্টেইনারে আনুমানিক ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কিছু কন্টেইনারে ‘হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড’ লেখা ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে শেখ আলামিন ও তার স্ত্রী আসিয়া মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছিলেন। ভবনের চারটি কক্ষের মধ্যে দুটি মাদ্রাসার কাজে ব্যবহৃত হতো এবং বাকি দুটি কক্ষে তারা পরিবারসহ বসবাস করতেন।

পুলিশ সুপার জানান, বিস্ফোরণের পর শেখ আলামিন স্ত্রী ও সন্তানদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে সেখানে তাদের রেখে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। ঢাকা জেলা ডিবিও অভিযানে অংশ নেয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে আলামিনের স্ত্রী আসিয়া, তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার এবং ঢাকার বাসাবো এলাকা থেকে আসমানি খাতুন নামে আরেক নারীকে আটক করা হয়। পরে তাদের তিনজনকেই গ্রেফতার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, শেখ আলামিনের বিরুদ্ধে ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি ২০১৭ ও ২০২০ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন। একইভাবে আসমানি খাতুন ওরফে আসমার নামেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তির পর আলামিন অটোরিকশা ও পরে উবার চালক হিসেবে কাজ করতেন।

বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, “রাসায়নিক বিক্রিয়া অথবা বিস্ফোরকজাত দ্রব্যের কোনো প্রতিক্রিয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, তবে এখনও লিখিত মতামত দেয়নি।”
জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে হ্যান্ডকাফ ও কিছু সন্দেহজনক সামগ্রী পাওয়া গেছে, সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।”
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নাশকতার কোনো পরিকল্পনা ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মুফতি হারুন নামে এক ব্যক্তি মাদ্রাসার অন্যতম পরিচালক ছিলেন এবং তিনিই ভবনটি ভাড়া নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ রাজধানীর খুব কাছাকাছি ও জনবহুল এলাকা। সৌভাগ্যক্রমে সময় ও দিনের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি হয়নি।”

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে বড় ছেলে উম্মায়ের তুলনামূলকভাবে বেশি আহত হলেও কারও গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ আঘাত ধ্বংসাবশেষের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নাগরিকদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, “আশপাশে কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা ভাড়াটিয়া নজরে এলে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।”

By admin

Editor And Publisher at Doinik Shirso Aparadh, Motijheel, Dhaka-1000.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এখনই দেখুন

Verified by MonsterInsights