- অনতিবিলম্বে রাসায়নিক বর্জ্য শোধন না করলে কঠোর ব্যবস্থা: এমপি মনিরুল হক চৌধুরী
- বেপজা কর্মকর্তাদের তোপের মুখে ফেলে আলটিমেটাম
শেখ ফরিদ উদ্দিন:
দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক জোন কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)-এর বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইপিজেডের বিষাক্ত কেমিক্যাল সরাসরি সিটি কর্পোরেশনের প্রাকৃতিক খালে ফেলায় দক্ষিণের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসলি জমি বিষাক্ত হয়ে উঠছে, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এই ভয়াবহ পরিবেশগত অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে রাসায়নিক বর্জ্য শোধনাগারে (ইটিপি) পরিশোধন ছাড়া খালে না ছাড়ার চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
শনিবার (০৬ জুন) সকাল ১১টায় কুমিল্লা বেপজার সম্মেলন কক্ষে বেপজা কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
কুমিল্লা বেপজার নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী সরাসরি কর্মকর্তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেন, “কুমিল্লা ইপিজেড বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রপ্তানি করছে—সেজন্য কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের জীবন ও প্রকৃতি ধ্বংস করার লাইসেন্স কাউকে দেওয়া হয়নি।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ইপিজেডের বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য সিটি কর্পোরেশনের প্রাকৃতিক খালে মিশে জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বর্জ্য দক্ষিণের বিস্তীর্ণ জনভূমি ও ফসলি জমিকে বিষাক্ত করে তুলছে। কৃষকরা দিনের পর দিন নিঃস্ব ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অপরাধ আর সহ্য করা হবে না। অনতিবিলম্বে ইপিজেডের রাসায়নিক বর্জ্য শোধনাগারে শতভাগ পরিশোধন করে তবেই প্রাকৃতিক খালে ছাড়তে হবে। অন্যথায় কোনো ধরনের রাসায়নিক বর্জ্য খালে ফেলা যাবে না।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইপিজেডের বেশ কিছু কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত তরল বর্জ্য কোনো ধরনের শোধন ছাড়াই রাতের অন্ধকারে কিংবা গোপনে লোকচক্ষুর আড়ালে উন্মুক্ত খালে ছেড়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পরিবেশগত অপরাধের কারণে স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ইপিজেডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, কুমিল্লা ইপিজেডে বৈদেশিক বিনিয়োগের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এর সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। বর্তমান ইপিজেডের দক্ষিণাংশে প্রচুর জমি রয়েছে, যা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এছাড়া গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে সম্পূর্ণ আলাদা আরেকটি ইপিজেড গড়ে তোলার ব্যাপারেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (কমার্শিয়াল) হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (আইআর) ফেরদৌস, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান এবং সহকারী প্রকৌশলী (৫ম গ্রেড) সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
জনস্বার্থবিরোধী এই বর্জ্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন শক্ত অবস্থানের পর বেপজা কর্তৃপক্ষ এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে কুমিল্লার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
