নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বরগুনার আমতলীতে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে এক রাজমিস্ত্রী এবং তাকে উদ্ধার করতে নেমে আরও এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমতলী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন রাজমিস্ত্রী জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৪২) এবং স্থানীয় ওয়ার্কশপ মালিক জাফর হাওলাদার (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইউসুফ-এর নির্মাণাধীন ভবনের মাটির নিচে থাকা সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করেন জাহিদুল ইসলাম। কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে ধারণা করা হয়।
পরে তাকে উদ্ধার করতে ট্যাংকের ভেতরে নামেন জাফর হাওলাদার। কিন্তু তিনিও অল্প সময়ের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
দীর্ঘ চেষ্টার পর সেপটিক ট্যাংক ভেঙে দুইজনকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে অথবা বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয়দের দাবি, দুর্ঘটনার পর থেকে ভবনের মালিককে এলাকায় দেখা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আবু শাহাদৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
সেপটিক ট্যাংক, কূপ বা বদ্ধ স্থানে কাজ করার সময় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, গ্যাস পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এই দুর্ঘটনা।
