• শুক্র. সেপ্টে ১১, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্টের চক্রান্ত হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

BySarker

জুলা ২৬, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২৬ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখার পরও স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনাসদরে ‘সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল। তবে সেই কঠিন সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারত্বের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ধরন বদলে গেছে। এখন শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্যাটেলাইট নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন মডেল গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, প্রায় ১,০৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া মাইন ও বিস্ফোরকমুক্তকরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আত্মোৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতেও বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়, বরং সততা, মেধা, পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং শারীরিক সক্ষমতা-কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এতে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হবে।

By Sarker

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights