ওয়াজেদ নয়ন
ব্যুরো প্রধান, জামালপুর
জামালপুর: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে সরকারি ব্রিজের মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই অভিযানের দুই সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা না হওয়ায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
গভীর রাতের অভিযান ও মালামাল জব্দ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর জোড়খালী ইউনিয়নের হাট মাগুরা বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি ভাড়া করা ঘরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে কয়েকজন সাংবাদিকের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতর থাকা চক্রটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
অভিযানকালে ঘরটি থেকে একটি গ্রাইন্ডিং (লোহা কাটার) মেশিন এবং হাট মাগুরা বাজারের পশ্চিম পাশের একটি সরকারি ব্রিজের জন্য নিয়ে আসা দুটি বড় আকারের লোহার রেলিং জব্দ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, চুরি করা রেলিংগুলো কাটার প্রস্তুতি চলছিল এবং এগুলোর ওজন ও বাজারমূল্য বেশ ভালো।
মামলা না করে নিলামের তোড়জোড়!
এ ঘটনায় মাদারগঞ্জ মডেল থানায় কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গত ১৮ ও ২৩ মে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাহিদুল ইসলাম-এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উদ্ধার হওয়া মালামাল বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে, উদ্ধার হওয়া সরকারি মালামাল তড়িঘড়ি করে নিলামে তোলার গুঞ্জন ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—জব্দ করা সরকারি সম্পদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আগেই কেন নিলামের আলোচনা হচ্ছে?
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হলে এর পেছনে কারা জড়িত এবং কারা চোর চক্রটিকে পেছন থেকে সহযোগিতা করছে—সবই বেরিয়ে আসবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত এই রহস্যজনক নীরবতা ভেঙে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের চিহ্নিত করবে এবং সরকারি সম্পদ চুরির চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
