
★সীমা লঙ্ঘনে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সর্বনিম্ন ২৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। এই ব্যয়সীমা নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে। তবে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে হতে পারে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে আসনভিত্তিক হালনাগাদ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় প্রার্থীরা সেই তালিকার সিডিও পেয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় এই তালিকা অনুসারেই নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর মোট নির্বাচনী ব্যয় ভোটারপ্রতি ১০ টাকা অথবা ২৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি—তার বেশি হতে পারবে না। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীর জন্য করা ব্যয়ও হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।
গাজীপুর-২ এ সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় আসন গাজীপুর-২। এখানে ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন। ফলে এই আসনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ ৩ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন, যা সারাদেশে সর্বোচ্চ।
এর পরেই রয়েছে ঢাকা-১৯ আসন, যেখানে ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এ আসনে ব্যয়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ৭০০ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা গাজীপুর-১ আসনে ব্যয়সীমা ৭২ লাখ ৯ হাজার ৩৯০ টাকা।
কম ভোটার, তবু ২৫ লাখই ন্যূনতম সীমা
ভোটার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও কোনো আসনে ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকার নিচে নামবে না। যেমন—ঝালকাঠি-১, যশোর-১ ও পিরোজপুর-৩ আসনে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হিসেবে ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকার কম হলেও আইন অনুযায়ী এসব আসনে প্রার্থীরা সর্বনিম্ন ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন।
আইন লঙ্ঘনে কঠোর শাস্তি
আরপিওর ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত ব্যয়সীমা লঙ্ঘন করলে তা বে-আইনিকার্য হিসেবে গণ্য হবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। বর্তমানে প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে। ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে। দলীয়ভাবে দাখিল করা হয়েছে ২ হাজার ৯১টি এবং স্বতন্ত্রভাবে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র।
নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, স্বচ্ছ ও সমতাভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করতেই ব্যয়সীমা সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
