• রবি. জুন ২১, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

রাষ্ট্রীয় শোকের সমাপ্তিতে জনসমর্থনের বাস্তব চিত্র স্পষ্ট, খালেদা জিয়া কেবল ব্যক্তি নন—একটি রাজনৈতিক আদর্শ : তারেক রহমান

Byadmin

জানু. ৪, ২০২৬


এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল :

প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আজ শেষ হয়েছে। এই শোককালীন সময়জুড়ে দেশ-বিদেশে যে বিপুল জনসমর্থন, শ্রদ্ধা ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবস্থানকে নতুন করে প্রশ্নাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় শোকের সমাপ্তি উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্টে বলেন, এই তিন দিনে দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে—বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণমানুষের বিশ্বাস, আপোষহীনতার প্রতীক এবং স্বৈরশাসনবিরোধী সংগ্রামের অনন্য নাম।
তারেক রহমান বলেন, “আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন। অনেক ক্ষেত্রে এই তাৎপর্য ছিল এত গভীর যে, আমরা নিজেরাও হয়তো পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি ইঙ্গিত দেন—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থেকেও খালেদা জিয়া কীভাবে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন রাজনীতির প্রতীক—যিনি ক্ষমতার লোভে নয়, বিশ্বাসের প্রশ্নে কখনো মাথা নত করেননি। এই আদর্শ রাজনীতির সীমানা ছাড়িয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে প্রভাবিত করেছে, যা শোকের দিনগুলোতে জনসমাগম ও আবেগে দৃশ্যমান হয়েছে।
তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও দ্রুত প্রশাসনিক সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে—যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্র, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, কূটনীতিক ও বিশ্বনেতাদের সহমর্মিতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরই প্রতিফলন। জানাজায় বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতি, সমবেদনার বার্তা ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রমাণ করে—খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, শেষ বিদায়ে তাদের শৃঙ্খলা ও শ্রদ্ধাবোধ জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের গার্ড অব অনার ও শেষ সালামকে তিনি জাতির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তারেক রহমান আরও স্মরণ করিয়ে দেন, বহু মানুষ নীরবে ও আড়ালে থেকে এই পুরো প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন—যাদের নাম হয়তো প্রকাশ্যে আসেনি, কিন্তু ইতিহাস তাদের ভূমিকা ভুলবে না।
সবশেষে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে—বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণমানুষের নেত্রী। এই ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি ভবিষ্যতের বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মর্যাদার রাজনীতির পথে বিএনপির আন্দোলনকে আরও দৃঢ় করবে।
বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে শোকের এই সময়ে পাশে থাকা সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা ও সংহতিই আমাদের শক্তি। ইনশাআল্লাহ, এই শক্তি নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।”

By admin

Editor And Publisher at Doinik Shirso Aparadh, Motijheel, Dhaka-1000.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এখনই দেখুন

Verified by MonsterInsights