
নিজস্ব প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাটে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী। বিভিন্ন জাহাজ থেকে মালামাল ওঠানামার কাজে ব্যবহারের জন্য বসানো ক্রেন জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়ে তাকে ব্যবসা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী ব্যবসায়িক সূত্রে জানা গেছে, তাদের ব্যবসায়িক সহযোগী জুলহাস কাঞ্চন ব্রিজের উত্তরে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে, ব্রিজ থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার দূরে পূর্বাচল সংলগ্ন শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ থেকে ইজারা নেওয়া জায়গায় বিভিন্ন জাহাজ থেকে মালামাল ওঠানামার জন্য লোডিং-আনলোডিং ক্রেন স্থাপন করেন। বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতেই সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে দাবি তাদের।
তবে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ওই ব্যবসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, রূপগঞ্জ থানা বিএনপির বর্তমান সেক্রেটারি হিসেবে পরিচিত বাচ্চুর ইশারায় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে জুলহাসকে কাজ বন্ধ করতে চাপ দেন এবং একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
এছাড়া বাচ্চু, শরীফ মেম্বার, আরেক শরীফ এবং ছাত্রদলের রাসেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চাঁদা না দিলে ঘাটে ক্রেন বসিয়ে মালামাল ওঠানামার কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়িক সূত্রের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বাচ্চুর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে ক্রেনটি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ী জুলহাস আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিমুলিয়া ঘাটটি নৌপথে গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে এই ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসও পরিচালনা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। ফলে ঘাটকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে অনিয়ম বা চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে বিআইডব্লিউটিএ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ তদন্ত করে বৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের দাবি, বিআইডব্লিউটিএর ইজারা বা অনুমোদনের কাগজপত্র যাচাই করে যদি ব্যবসায়ীর কার্যক্রম বৈধ প্রমাণিত হয়, তাহলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাকে উচ্ছেদ বা চাঁদা দাবির সুযোগ থাকা উচিত নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বাচ্চু, শরীফ মেম্বার, শরীফ ও ছাত্রদলের রাসেলের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
