• মে ২০, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

মুগদার সেই খণ্ডিত সাত টুকরো মরদেহ: পরিকল্পিত হত্যার ভয়ংকর চিত্র বের করল পুলিশ।

ByShirso aparadh

মে ২০, ২০২৬

*ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রবাসী হত্যা, মরদেহ সাত টুকরো

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ বলছে, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন এবং বিয়ের চাপকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ঘটনার মূল অভিযুক্ত তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সব তথ্য।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন মোকাররম। গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে তিনি সরাসরি মুগদার মান্ডা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন, যেখানে তার পরিচিত এক নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তদন্তে জানা গেছে, ওই নারীর সঙ্গে মোকাররমের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়েছেন।

পুলিশের দাবি, দেশে ফেরার পর মোকাররম তার দেওয়া অর্থ ফেরত চান এবং সম্পর্ককে স্থায়ী রূপ দেওয়ার বিষয়েও চাপ দেন। এতে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার নেয়। পরে কৌশলে তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুর্বল করে ফেলা হয়। এরপর ঘরের ভেতরেই হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ টুকরো করা হয়। পরে সেগুলো পলিথিনে মুড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর মুগদার একটি ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পিবিআইয়ের তদন্তে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

এ ঘটনায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এতে একাধিক ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।

বর্তমানে গ্রেপ্তার প্রধান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হত্যার পেছনে আরও কিছু তথ্য ও সংশ্লিষ্টতা সামনে আসতে পারে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এখনই দেখুন

Verified by MonsterInsights