
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্টঃ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) থেকে ২০০৫ সালের আগের ₹১০, ₹২০, ₹৫০ ও ₹১০০ মূল্যের ভারতীয় নোট আর গ্রহণ করা হবে না। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র এসব নোট নেবে না—এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়া।
ভারতে ভ্রমণে যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য বিষয়টি জানা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে অনেকেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে পুরোনো নোট বদলানোর চেষ্টা করছেন বা আতঙ্কিত হচ্ছেন।
ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর ২০০৫ সালের আগের ₹১০, ₹২০, ₹৫০ ও ₹১০০ নোট গ্রহণ করা হবে না—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গ্রাহকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর বার্তায় বিশ্বাস না করে শুধুমাত্র ব্যাংকের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI)-এর অবস্থানও স্পষ্ট। ২০১৫ সালে আরবিআই জানায়, ২০০৫ সালের আগের মহাত্মা গান্ধী সিরিজের নোটের প্রচলন কমে যাওয়ায় কেউ চাইলে ব্যাংকে গিয়ে সেগুলো বদলে নিতে পারবেন। তবে এসব নোটের আইনি বৈধতা বাতিল করা হয়নি। অর্থাৎ, এগুলো নোটবন্দির আওতায় পড়েনি।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য পরামর্শ
- ২০০৫ সালের আগের ₹১০, ₹২০, ₹৫০ ও ₹১০০ নোট নিষিদ্ধ হয়েছে—এমন গুজবে বিশ্বাস করবেন না।
- ভারতে ভ্রমণের আগে বা অবস্থানকালে মুদ্রা সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (RBI) বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে যাচাই করুন।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইবিহীন বার্তা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
- আপনার কাছে পুরোনো ভারতীয় নোট থাকলে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ হলে ভারতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিন।
ভারতে ভ্রমণ বা চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বর্তমানে পুরোনো ₹১০, ₹২০, ₹৫০ ও ₹১০০ নোট বাতিল বা অচল ঘোষণা করা হয়নি। তাই গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কেবল সরকারি ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
