• রবি. সেপ্টে ৬, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে সিফাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা

BySarker

সেপ্টে ৫, ২০২৬

একটি মিটারের হিসাব সামনে এনে প্রশ্ন, তদন্তে মিলল বাড়িতে তিন আবাসিক সংযোগের তথ্য | জুলাই-আগস্টে তিন মিটারে বিল ১০ হাজার ৬৮১ টাকা

গাজিপুর জেলা প্রতিবেদক :

‘দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিফাত আব্দুল্লাহর এমন বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি বিষয়টিকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে তুলে ধরেন। পরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘এক মাসের বিদ্যুৎ বিল একটা পুরো পরিবারকে জিম্মি কইরা ফেলবো?’

তবে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সিফাত আব্দুল্লাহ যে বাড়িতে বসবাস করেন সেখানে একটি নয়, রয়েছে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটার। আর তিনটি মিটারের সম্মিলিত হিসাব করলে জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসেই বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮১ টাকা

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আহসান কবীর স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন মিটারে চার মাসে বিল ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর পিতা মো. সেকান্দার আলীর নামে গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত দোতলা বাড়িটিতে তিনটি আবাসিক মিটার সংযোগ রয়েছে।

প্রথম মিটার S000433*7-এ মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা

দ্বিতীয় মিটার S000218*5-এ একই সময়ে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। এর বিপরীতে বিল এসেছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা

তৃতীয় মিটার S000424*7-এ চার মাসে মোট ৬২৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা

সব মিলিয়ে মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট—চার মাসে তিনটি মিটারে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা

জুলাই-আগস্টে কত বিল?

তদন্ত প্রতিবেদনের হিসাব বলছে, জুলাই মাসে তিনটি মিটারে বিল হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৮২ টাকা, ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা ও ১ হাজার ৬৩৩ টাকা। অর্থাৎ ওই মাসে মোট বিল ৬ হাজার ৪০৯ টাকা

আগস্টে তিনটি মিটারে বিল হয়েছে ৫১৩ টাকা, ২ হাজার ৩৯৭ টাকা ও ১ হাজার ৩৬২ টাকা। অর্থাৎ আগস্টে মোট বিল ৪ হাজার ২৭২ টাকা

দুই মাসে তিনটি মিটারের মোট বিল দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮১ টাকা

ফলে ‘দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল’—সিফাতের বক্তব্যটি যদি তার বসবাসরত বাড়ির তিনটি মিটারের সম্মিলিত বিল বোঝায়, তাহলে তদন্ত প্রতিবেদনের হিসাবের সঙ্গে সেটির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট একটি মিটারের বিলকে বোঝানো হয়ে থাকলে হিসাবটি ভিন্ন হবে।

কর্মকর্তাদের বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজীপুর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা সিফাতের বাড়িতে গিয়ে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের প্রকৃত তালিকা সংগ্রহ করতে চাইলে তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে বাড়ির গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক মনে হলে গ্রাহকের অভিযোগ করার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মিটার রিডিং, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন ও বাড়িতে থাকা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে বিতর্ক কোথায়?

সিফাতের ভিডিও ও ফেসবুক বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিলকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, সেটি হলো—বিলের পরিমাণ বাস্তব ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য বলছে, সংশ্লিষ্ট বাড়িতে তিনটি আবাসিক মিটার রয়েছে। তাই শুধু একটি মিটারের বিল দেখিয়ে পুরো বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরলে হিসাবটি অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।

বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে তিনটি মিটারে মোট ১০ হাজার ৬৮১ টাকা বিল এবং চার মাসে ১৬ হাজার ২৭৩ টাকার বিলের তথ্য সামনে আসার পর সিফাতের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

By Sarker

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights