সাভার প্রতিনিধি:
সাভারে এক গৃহবধূকে (২০) ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেলিংয়ের মাধ্যমে টানা ৩ দিন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে ঘটনার জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম রানাকে (৩৬) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মামলার অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছে।
গ্রেফতার ও পলাতক আসামি যারা:
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
- সাইফুল ইসলাম রানা (৩৬) (প্রধান আসামি, পেশায় রাজমিস্ত্রী)
- মজিবর রহমান (৪৮)
- মেহেদী (১৬) (কিশোর)
পলাতক আসামিরা হলেন— সাকিব (২০) (গ্রেফতারকৃত কিশোর মেহেদীর আপন ভাই) এবং আরও একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। আসামিরা সবাই ভুক্তভোগী গৃহবধূর প্রতিবেশী বলে জানা গেছে।
ঘটনা ও পরিবারের অভিযোগ:
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূ তার ভাড়া বাড়ির চাটাই দিয়ে ঘেরা টিউবওয়েলে গোসল করছিলেন। এ সময় পাশের রুমের ভাড়াটিয়া রানাসহ প্রতিবেশী আরও দুজন গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে এবং বাকি দুজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে।
পরদিন বুধবার, সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে রানা ও তার সহযোগীরা পুনরায় তাকে ধর্ষণ করে। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী মিরপুরের একটি মেলায় গেলে, রাত ৩টার দিকে রানাসহ মোট ৫ জন মিলে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাকে আবারও পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
টানা ৩ দিন এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই গৃহবধূ। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি আত্মহত্যা করতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাধা দেন এবং আত্মহত্যার কারণ জানতে চান। তখন গৃহবধূ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বিগত ৩ দিনের পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন।
গণপিটুনি ও পুলিশি অ্যাকশন:
ঘটনা জানার পর শনিবার রাত ৮টার দিকে প্রধান আসামি রানা বাসায় ফিরলে ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে আটকে রাখে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা রানাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রানাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং পরে অভিযান চালিয়ে মজিবর ও মেহেদী নামের আরও দুজনকে গ্রেফতার করে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
মামলা নিয়ে অসন্তোষ ও পুলিশের বক্তব্য:
ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করলেও, এজাহারে ৩ দিনের ঘটনার পরিবর্তে কেবল ১ দিনের (বৃহস্পতিবার রাতের) কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
পরিবারের এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন,
”ঘটনার বিবরণ ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার মা যেভাবে বর্ণনা করেছেন, মামলাটি ঠিক সেভাবেই রেকর্ড করা হয়েছে। আমাদের সিনিয়র কর্মকর্তারাও ভুক্তভোগীর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।”
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
