
নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শর্তসাপেক্ষে টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২৫ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রোববারও গ্রাহকদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ফলে আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আবেদন গ্রহণ শেষে প্রকৃত গ্রাহক সংখ্যা এবং তাদের প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ চূড়ান্ত করে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, কতজন ক্ষুদ্র আমানতকারী তাদের অর্থ উত্তোলন করতে আগ্রহী এবং এজন্য মোট কত অর্থের প্রয়োজন হবে—তা নির্ধারণের জন্যই আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এখনো আবেদনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক হিসাবে আবেদনকারীর সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন জমা পড়া আবেদনের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় অর্থের হিসাব পর্যালোচনা করে মোট অর্থের চাহিদা নির্ধারণ করা হবে। সেই অনুযায়ী অর্থের সংস্থান করে সোমবার থেকে আমানতকারীদের মধ্যে টাকা বিতরণ শুরু করা হবে।
একসঙ্গে ব্যাংকে ভিড় না করার আহ্বান
অর্থ উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যাতে অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সবাই একসঙ্গে টাকা উত্তোলনের জন্য শাখায় উপস্থিত হলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাদের তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে টাকা উত্তোলনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ নিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
আবেদন করলেও সবাই টাকা তুলবেন না
টাকা উত্তোলনের আবেদন করলেই প্রত্যেক গ্রাহক শেষ পর্যন্ত অর্থ তুলবেন—এমনটি নাও হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কারণ, টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কিছু মুনাফা ছাড় দেওয়ার বিষয় থাকতে পারে। এ কারণে আবেদন করার পর কেউ কেউ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। ফলে যারা বাস্তবে ব্যাংকে উপস্থিত হয়ে অর্থ উত্তোলন করবেন, তাদের হিসাব অনুযায়ী অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।
আমানতকারীদের স্বার্থে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র।
তিনি বলেন, আমানতকারীদের দাবি পূরণ এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম সচল রাখা হবে।
ঋণ বিতরণে প্রস্তুত ব্যাংক, প্রয়োজন লজিস্টিক সুবিধা
এদিকে দেশের ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন আরিফ হোসেন খান। তবে ঋণ নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
তার মতে, ব্যাংক ঋণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকেও বিনিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উপযোগী প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু অর্থ ছাড় করলেই বিনিয়োগ কার্যকর হয় না। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সড়ক যোগাযোগ, বন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক সুবিধা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক অর্থায়নের বিষয়টি দেখভাল করছে। তবে ঋণ পাওয়ার পর উৎপাদনমুখী কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সহায়তা না থাকলে বিনিয়োগ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
মুখপাত্র বলেন, লজিস্টিক সুবিধার ঘাটতির কারণে কিছু ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণে বিলম্ব হতে পারে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ঋণ গ্রহণ ও বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হলে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
