নিজস্ব প্রতিনিধি:
পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় এক নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে এই প্রতারণামূলক বিয়েতে সহযোগিতা করার দায়ে সংশ্লিষ্ট কাজিকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং তার নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মোছা. নুসরাত জাহান তাসনিম (২৬) এবং কাজি আবু মুসা আহমদ। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাভোগ করতে হবে।
মামলার বাদী, কম্পিউটার প্রকৌশলী জাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর এক লাখ টাকা দেনমোহরে তার সঙ্গে নুসরাত জাহান তাসনিমের বিয়ে হয়। সে সময় তাকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দেওয়া হয়। তবে বিয়ের পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, নুসরাত এর আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন, যা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, বিয়ের প্রায় এক বছর পর ২০১৮ সালে নুসরাত তার ভাইকে সিঙ্গাপুর পাঠানোর কথা বলে জাহিদের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। জাহিদ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুসরাত সংসার না করার হুমকি দেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে বিরোধ দেখা দিলে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ একটি ঘরোয়া সালিশের আয়োজন করা হয়। সেখানেই নুসরাতের পূর্বের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এরপর প্রতারণার অভিযোগে জাহিদ হাসান আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নারী ও সংশ্লিষ্ট কাজিকে দণ্ড প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর নুসরাত জাহান তাসনিমকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে কাজি আবু মুসা আহমদ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার লাইসেন্স বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
এই মামলায় মো. আমিনুল ইসলাম নামে আরও একজন অভিযুক্ত থাকলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস প্রদান করেন।
