• রবি. আগ ১৬, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

তিস্তায় বিপৎসীমার ওপরে পানি: ৪৪টি জলকপাট খুলে দিল ডালিয়া ব্যারেজ

ByShirso Aparadh

জুন ২৪, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমনিরহাট |

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে উত্তাল হয়ে উঠেছে তিস্তা নদী। গত ২৪ ঘণ্টায় পানির তীব্র চাপে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ নতুন করে বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে পানি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে। শনিবার (২০ জুন) থেকেই পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছিল, যা বর্তমানে বিপদসীমা ছাড়িয়েছে।

ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় তীরবর্তী মানুষ তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে বাড়িঘর ও গবাদিপশু হারানোর দুশ্চিন্তা প্রকট হয়েছে।

খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান বলেন, “উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে তিস্তা ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। নদী তীরের বাসিন্দাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছি।”

প্রশাসনের জরুরি সতর্কতা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “পানির অস্বাভাবিক চাপ নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাটই উন্মুক্ত রেখেছি। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন হলে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং ও সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।”

স্থায়ী সমাধান নেই, দুর্ভোগে জনজীবন স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নদী খনন বা ড্রেজিং না করায় তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে নদীর ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে জনপদ প্লাবিত হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থায়ী ড্রেজিংই পারে তিস্তা পাড়ের মানুষকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে।

আপাতত ফসলের মাঠ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights