
সোহেল রানা:
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গৃহকর্মী মীম আক্তারের (১৫) মরদেহ ফেলে যাওয়ার অভিযোগে দায়ের করা হত্যা মামলায় তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মীমের গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ, তাঁর স্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা এবং রেশমার বাবা এবিএম আব্দুর রাজ্জাক। ফয়সাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, আব্দুর রাজ্জাক ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রেশমা গৃহিণী।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিন দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মীম আক্তার প্রায় এক বছর ধরে ফয়সাল আহমেদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। কাজ শুরুর পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের বিষয়টি মীম ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট মীমের মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে চলে যায় আসামিরা। পরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।
এরপর ১৩ আগস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে দাবি করেন, মীম বাসা থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। ১৭ আগস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা আসামিদের বাসায় গিয়ে তাঁর খোঁজ করলে তাঁদের গালিগালাজ করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
২০ আগস্ট পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থাকা মরদেহ শনাক্ত করেন মীমের পরিবারের সদস্যরা। নিহত মীম কুমিল্লার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় ২১ আগস্ট মীমের মা শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
