
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটসহ জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোডে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির ও দলের কর্মপরিষদ সদস্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন। জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের দাবিতেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন।
কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে কুমিল্লা বিভাগ করার দাবি উঠলেও দীর্ঘ সময়েও তা বাস্তবায়িত হয়নি। দ্রুত কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো সরকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কুমিল্লায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি এখনো রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুবসমাজকে রক্ষায় সরকারের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
পথসভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, বর্তমান সরকার ১৮০ দিনে দেশ পরিচালনায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সিন্ডিকেট ও দুর্নীতি দমনে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শিগগিরই ঢাকায় বড় ধরনের লংমার্চের কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন নাহিদ ইসলাম।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশ চাঁদাবাজি ও খুন-রাহাজানির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনরায় উপেক্ষা করলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে দাবি আদায়ে জনগণকে মাঠে নামতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপিসহ দলগুলোর স্থানীয় নেতারা।
এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চের বহরটি যাত্রা শুরু করে। পথে ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ে পথসভা করার পর চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
