
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল রপ্তানির ক্ষেত্রে উন্মোচিত হতে যাচ্ছে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এবার গাজীপুরের উন্নতমানের কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানির জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে।
শনিবার (০৬ জুন) গাজীপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চীন-বাংলাদেশ এক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে গাজীপুরের সুস্বাদু ও গুণগত মানসম্পন্ন কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানির বিভিন্ন কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক মো. মশিউর রহমানসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। চীনের পক্ষ থেকে দেশটির জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস (GACC)-এর প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চীনের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের কাঁঠাল রপ্তানি করতে হলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি। আলোচনায় মূলত কাঁঠালের উৎপাদন মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক প্যাকেজিং ব্যবস্থা, কোল্ড চেইন (শীতলীকরণ সরবরাহ ব্যবস্থা) ব্যবস্থাপনা এবং ফাইটোস্যানিটারি (উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিষয়ক) শর্ত পূরণের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। চীনের বাজারে বাংলাদেশের কাঁঠাল পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি মসৃণ ও দীর্ঘমেয়াদী করতে উভয় দেশের প্রতিনিধিরাই একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি দল গাজীপুরের স্থানীয় বেশ কয়েকটি কাঁঠাল বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বাগান পরিদর্শনকালে তারা কাঁঠালের ফলন, আকার এবং গুণগত মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং রপ্তানির উপযোগী কাঁঠাল উৎপাদনে চাষিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চীনের মতো বড় বাজারে যদি গাজীপুরের কাঁঠাল আনুষ্ঠানিকভাবে রপ্তানি শুরু করা যায়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে। একই সাথে ন্যায্য মূল্য পেয়ে লাভবান হবেন স্থানীয় কাঁঠাল চাষিরা, যা সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
