
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন ব্যবসায়ী বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সার্জিও গোরের বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
ড. মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে সার্জিও গোর বাংলাদেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নিতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথাও জানান।
তিনি বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে সরকারের চলমান পদক্ষেপ সম্পর্কেও মার্কিন প্রতিনিধিদলকে অবহিত করা হয়েছে।
ড. মাহদী আমিন আরও জানান, বেসরকারি খাতের বিকাশে সরকার ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে দ্রুত এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এতে পণ্য পরিবহন ও খালাসে সময় কমবে, ব্যবসায়িক ব্যয় হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে রাষ্ট্রীয় সেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা এবং দেশীয় বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
