• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতিকে হত্যার হুমকি, সাংবাদিকদের মানববন্ধনগৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতিকে হত্যার হুমকি, সাংবাদিকদের মানববন্ধন

বরিশাল বিভাগীয় ব্যুরো

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় সাংবাদিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ। অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে হত্যার হুমকির তীব্র নিন্দা জানান এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে স্লোগান দেন।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এম আলম। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক এস এম জুলফিকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ হীরা, উত্তম দাস, সদস্য কাজী আলামিন, সোলায়মান তুহিন, লিটন খান, আবু হানিফ, মোল্লা ফারুক, এ এস মামুন, গৌরনদী সাংবাদিক ফোরামের উপদেষ্টা সৈয়দ নকিবুল হক, সভাপতি সরদার মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান এবং উজিরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাকিল মাহমুদ বাচ্চু। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্য বি এম বেলাল।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, একজন সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া মানে কেবল একজন ব্যক্তিকে ভয় দেখানো নয়, বরং এটি স্বাধীন গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনা যদি দৃষ্টান্তমূলকভাবে দমন করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন এবং সত্য প্রকাশের পথ বাধাগ্রস্ত হবে।

সমাবেশে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, দেশে অতীতে বহু সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকায় অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে গেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহিরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সারাদেশে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে হুমকিদাতাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা না হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, যা ভবিষ্যতে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights