
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসি প্রাঙ্গণে ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচন ভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে সড়কে শত শত ছাত্রদল নেতাকর্মী অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি ইসির সামনে রাখা হয় রায়ট কার ও জলকামান।
ছাত্রদল জানিয়েছে, তিনটি প্রধান অভিযোগের ভিত্তিতে তারা এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে। অভিযোগগুলো হলো—
১) পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে;
২) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে নির্বাচন কমিশনের হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে;
৩) বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনি সংকেত।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেখেছি ব্যালট পেপার নিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করেছে। ইসিতে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। যদিও আমরা শুনেছি সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা, কিন্তু শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে আবারও আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ইচ্ছারই প্রতিফলন।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাহরাইনের একটি ঠিকানায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে গত ১৪ জানুয়ারি ব্যাখ্যা দেয় নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের মাধ্যমে পাঠানো ব্যালটগুলো মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ভিন্ন ব্যবস্থায় বিতরণ করা হয়। বাহরাইনের ক্ষেত্রে প্রায় ১৬০টি ব্যালট একটি নির্দিষ্ট ডেলিভারি বক্সে রাখা হয়েছিল, যেখান থেকে প্রবাসী ভোটাররা নিজেদের ব্যালট সংগ্রহ করেন। ব্যালট হাতে পাওয়ার আনন্দ থেকেই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পায় বলে দাবি করেন তিনি।
