• মে ২০, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সৈনিক আকতার হোসেনেকে সামরিক মর্যাদায় দাফন।

Byadmin

নভে. ১, ২০২৫

ভোলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে আজ শনিবার (১ নভেম্বর) চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বীর সৈনিক নায়েক আকতার হোসেন। বিজিবির হেলিকপ্টারে করে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে সমগ্র এলাকায়। গ্রামের পথে পথে মানুষ জড়ো হয়ে চোখের জলে বিদায় জানায় এই বীর সন্তানকে।

আজ সকালে ঢাকা সিএমএইচ থেকে বিজিবির হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়িতে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের প্রতিনিধি, সেনা ও বিজিবি কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং শত শত গ্রামবাসী। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।

নায়েক আকতার হোসেন (বিজিবি নম্বর–৬২১১৬) দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে আহত হন। গত ১২ অক্টোবর সকালে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রেজুআমতলী এলাকার পেয়ারাবুনিয়া সীমান্তে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির (AA) পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে রামু সেনানিবাস সিএমএইচে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিজিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করে নায়েক আকতার হোসেন যে বীরত্ব ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিজিবি পরিবার তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।

নায়েক আকতারের পরিবারে স্ত্রী, এক দশ বছরের ছেলে ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে—যে এখনও বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, আকতার ছিলেন সাহসী, দায়িত্ববান ও দেশপ্রেমিক।

গ্রামের প্রবীণ এক ব্যক্তি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আকতার সাহসী ছিল, দেশের জন্য প্রাণ দিতে সে দ্বিধা করেনি। আজ আমরা এক বীর সন্তানকে হারালাম।”

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে—নায়েক আকতার হোসেন দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গ করেছেন। তাঁর বীরত্ব, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগ বিজিবি পরিবারের জন্য গর্বের, আর জাতির জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বিজিবি কর্তৃপক্ষ তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights