
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার আটঘরিয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের জের ধরে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিক মো. নুরুন্নবী।

রোববার (২৩ আগস্ট) প্রেসক্লাব পাবনার মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। নুরুন্নবী দৈনিক দেশ বার্তা নিউজের পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক জীবনকথা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে নুরুন্নবী বলেন, আটঘরিয়া উপজেলার শিবপুর ত্বাহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক শামসুর আলম মঞ্জু ও আফরোজা খাতুনকে ঘিরে একটি বিষয় নিয়ে এলাকায় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গত ৩ আগস্ট এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের ব্যানারে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ওই মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশ করেন।
তার দাবি, ৯ আগস্ট মঞ্জু মাস্টারের পক্ষে আয়োজিত আরেকটি মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ইকরাম নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন ১০ আগস্ট ঘটনাটি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
নুরুন্নবী বলেন, পরে গুলিবিদ্ধ ইকরাম বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। তিনি মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে বলেন, তিনি কারও কাছে চাঁদা দাবি করেননি এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে নুরুন্নবী আরও দাবি করেন, শিক্ষক শামসুর আলম মঞ্জু অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আতাইকুলা থানায় একাধিক অভিযোগ ও বিস্ফোরক মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে নুরুন্নবী ছয়টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—চাঁদাবাজির মামলাটির সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত, অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে কি না তা যাচাই, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে তাকে হয়রানি করা হয়েছে কি না তা তদন্ত, শিবপুর মাদ্রাসার ঘটনা ও মানববন্ধনে গুলির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
নুরুন্নবী বলেন, তিনি আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় জড়ানো উচিত নয়।
তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
