• সোম. জুলা ১৩, ২০২৬

মুষলধারে বৃষ্টিতে অচল ঢাকা: জলাবদ্ধতায় ডুবেছে সড়ক, তীব্র যানজটে চরম ভোগান্তি

Byদৈনিক শীর্ষ অপরাধ

জুলা ১২, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

টানা ভারী বর্ষণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি, আবাসিক এলাকা, ফুটপাত ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা।

রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টির ফলে রাজধানীর মিরপুর, কালশী, ইসিবি চত্বর, বনানী, গুলশান, মহাখালী, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, মতিঝিল, কমলাপুর, গুলিস্তান, পুরান ঢাকা, খিলগাঁও, রামপুরা, মগবাজার, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, কুড়িল বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আরও ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা গেছে মিরপুর, কালশী ও ইসিবি চত্বর এলাকায়। শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুর-১০, ১১, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশন, বেগম রোকেয়া সরণি এবং আশপাশের সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বেজমেন্টে পানি ঢুকে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বনানী, কাকলী, মহাখালী ও খিলক্ষেত এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্পের নিচেও পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কুড়িল বিশ্বরোড, বিমানবন্দর সড়ক ও কালশী এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে মতিঝিল, কমলাপুর, আরামবাগ, ফকিরাপুল, কাকরাইল, নয়াপল্টন, পুরান পল্টন, বিজয়নগর ও সেগুনবাগিচার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নটরডেম কলেজের সামনের সড়ক, কমলাপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকা এবং আরামবাগ মোড়েও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

খিলগাঁও, সিপাহীবাগ, রামপুরা, মগবাজার, মধুবাগ ও নয়াটোলার নিচু এলাকাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও মোটরসাইকেল পানিতে বিকল হয়ে পড়ে। গণপরিবহনের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। সুযোগ বুঝে কিছু সিএনজি ও রিকশাচালক কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও মিরপুরের কয়েকটি স্টেশনের প্রবেশপথের নিচে পানি জমে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। অনেকে নিরাপদে পানি কমার অপেক্ষায় স্টেশন ও ফুটওভারব্রিজে অবস্থান করেন।

এদিকে সড়কে পানি জমে থাকায় ম্যানহোল ও গর্তগুলো পানির নিচে ঢেকে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। নগরবাসী দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ড্রেন ও খাল পরিষ্কার এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই বারবার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার পেছনে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, ড্রেনে আবর্জনা জমে থাকা এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের অভাব বড় কারণ। তারা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা ও কার্যকর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নগরবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার এবং পানি জমে থাকা সড়কে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Waterlogged-1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এখনই দেখুন

Verified by MonsterInsights