• মে ২০, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ে থামছে না নৈরাজ্য

Byadmin

এপ্রিল ১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রির অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। নির্ধারিত মূল্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য ১,৩৪১ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেকের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

ভোক্তারা বলছেন, খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহ সংকটের অজুহাত দিচ্ছেন। তবে বাস্তবে এই ঘাটতির কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই। এর ফলে বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং ‘প্যানিক বায়িং’-এর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা আকরাম হুসাইন বলেন, “আজ সকালে ২,১৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনেছি, যেখানে গত মাসে ছিল ১,৫০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দামে কখনোই গ্যাস পাই না।”

উত্তরার এক বাসিন্দা জানান, কয়েকটি দোকান ঘুরেও কম দামে সিলিন্ডার পাননি। শেষ পর্যন্ত ২,২০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন। তার ভাষায়, “সিলিন্ডারেই যদি এত খরচ হয়, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”

অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরাই ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনছেন। ফলে বাড়তি দামে বিক্রি করা ছাড়া তাদের উপায় থাকে না। তাদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত সমন্বয়হীনতা ও কার্যকর নজরদারির অভাবের ফল। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এই অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। তার মতে, বাজারে অসাধু চক্র সক্রিয় থাকলেও কার্যকর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ না করায় বাজারে এক ধরনের ‘অলিগার্কি’ তৈরি হয়েছে, যেখানে গুটিকয়েক ব্যবসায়ী দাম নিয়ন্ত্রণ করছে।

এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে, সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি সরবরাহ করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয় এবং বাজার মনিটরিং জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে বাস্তবতা বলছে, মাঠপর্যায়ে তদারকি দুর্বল থাকায় নির্ধারিত দাম কার্যকর হচ্ছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন বাজার ব্যবস্থার কারণে ভোক্তাদের ভোগান্তি কমার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights