নয়ন, মনিরামপুর ।
যশোরের মণিরামপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে একদিনে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার রাজগঞ্জ, পাড়দিয়া, ঝাঁপা ও পৌর এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। কুকুরের কামড়ে আহতদের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও হাসপাতালে জরুরি প্রতিষেধক টিকা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল থেকে একটি পাগলা কুকুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে যাকে সামনে পাচ্ছে তাকেই কামড়াচ্ছে। কুকুরের কামড়ে আক্রান্তদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— বাহির ঘরিয়া গ্রামের মো. আজিজুর রহমান, পৌরসভা দুর্গাপুর গ্রামের মোহাম্মদ রাফি হোসেন ও ফরিদা খাতুন, মনোহরপুর গ্রামের খলিলুর রহমান ও নাছিমা বেগম, ঝাঁপা গ্রামের রামপদ, ঘুঘুরাইল গ্রামের আব্দুস সামাদ, পাড়দিয়া গ্রামের হাসান ও মাহবুর এবং কাশিপুর গ্রামের সুমাইয়া খাতুন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক রোগের টিকা সরবরাহ না থাকায় আক্রান্তরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেক অসহায় ও দরিদ্র রোগীকে বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া মূল্যে টিকা কিনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এই ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজ সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে বা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. ফায়াজ আহমেদ ফয়সাল জানান, সকাল থেকেই কুকুরে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে আসা শুরু করেছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি টিকার সরবরাহ না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে টিকা কিনে আনছেন। চিকিৎসকরা সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
