শেখ ফরিদ উদ্দিন :
বর্তমানে কুমিল্লার দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা থেকে শুরু করে সারা দেশেই তীব্র বিদ্যুৎ সংকট বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও বৈশ্বিক কারণ কাজ করছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন আজ সকালে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার মেঘনা ও দাউদকান্দির জনগণসহ দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
ড. মারুফ হোসেন বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা অনেকাংশেই গ্যাসনির্ভর, বিশেষ করে আমদানিকৃত এলএনজি (LNG)-এর ওপর। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা এবং ডলার সংকটের কারণে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, ভারতভিত্তিক আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ থাকাও সংকটকে তীব্র করেছে।
এদিকে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে হঠাৎ করেই বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে কয়লা ও জ্বালানি তেল আমদানিও কমে গেছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
ড. মারুফ হোসেন বলেন, এই সংকট হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি; বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাগত দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার ফল। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার মাত্র আড়াই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই এত বড় সংকট দ্রুত সমাধান করা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
তবে ইতোমধ্যে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান, যা সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে সাময়িক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী মে মাস থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবেও এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটেছে, যা দেশের বিদ্যুৎ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
