• বুধ. সেপ্টে ৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

বাসা দেখার কথা বলে ফ্ল্যাটে ডাকাতি: মূল পরিকল্পনাকারী প্রতিবেশী গৃহবধূ, গ্রেপ্তার ৪

BySarker

জুলা ২২, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার অজুহাতে একটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তিন নারীকে বেঁধে প্রায় ২০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনায় এক গৃহবধূসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুট হওয়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭), সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলে পাঁচজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে তারা সেখানে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিনই ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। ভুক্তভোগীদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াতের কারণে সেখানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ থাকার তথ্য তিনি জানতেন। পরে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন এবং ঘটনার দিন ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশ ও নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

পুলিশ আরও জানায়, ডাকাতির পর সন্দেহ এড়াতে জিয়াসমিন ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় যান। এমনকি ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষী হিসেবেও নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

ডিসি তালেবুর রহমান জানান, তদন্তের একপর্যায়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে লুট হওয়া ১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে রিপনের তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১ লাখ টাকা এবং লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা।

পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনে অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী জিয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক বাকি চার আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

By Sarker

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights