• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপিকা সুমনা সিরাজ সুমির বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক, কর্তৃপক্ষের নীরবতায় প্রশ্ন

Byadmin

জানু. ১১, ২০২৬

শোয়েব হোসেন | নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ বেতারের একজন নারী অনুষ্ঠান উপস্থাপিকা সুমনা সিরাজ সুমি–এর কথিত ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও বাংলাদেশ বেতার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

বেতারের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ভিডিওটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে আলোচনা হলেও আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং কয়েকজন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট উপস্থাপিকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

বেতারের সদর দপ্তরে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এক ধরনের হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যেসব কর্মকর্তা বিগত সরকারের সময়ে পদোন্নতি বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা বর্তমান বাস্তবতায় মানসিক চাপে রয়েছেন। এর প্রভাব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও পড়ছে বলে তাদের দাবি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিল্পী ও কলাকুশলী বলেন, “যেসব উপস্থাপিকা বা কর্মীর সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তা গুরুত্ব পায় না। কিন্তু সাধারণ কর্মীরা সামান্য ভুল করলেও শাস্তির মুখে পড়েন।”

একজন কলাকুশলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“এখানে দুই রকম নীতি চলে। কারও বিরুদ্ধে যত গুরুতর অভিযোগই থাকুক, যদি তিনি ‘ঘনিষ্ঠ’ হন, তাহলে কিছুই হয় না। আর সাধারণরা হলে অনুষ্ঠান কমে যায়, ডিউটি কাটা পড়ে।”
এ বিষয়ে সুমনা সিরাজ সুমি–এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার জন্য ফোন ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশ বেতারের দায়িত্ব আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে কাজ করা। কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। একই সঙ্গে বেতারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, নৈতিক মানদণ্ড ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দৃশ্যমান

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights