• মে ২০, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

তেহরানে ভয়াবহ হামলার দাবি, ধোঁয়ায় ঢেকে রাজধানী: উত্তেজনা চরমে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত

Byadmin

এপ্রিল ৬, ২০২৬

ইরানের রাজধানী তেহরান-এ সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোর থেকে ব্যাপক বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, এই হামলায় শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার ভবন এবং ক্যাম্পাস মসজিদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাজধানীর আকাশে ধোঁয়া, আতঙ্কে বাসিন্দারা

হামলার পর পাওয়া ছবি ও ভিডিওতে তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত থেকেই যুদ্ধবিমানের অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সাধারণ দিনের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়িয়ে তোলে।

অন্যান্য শহরেও বিস্ফোরণ

শুধু তেহরান নয়, ইরানের আরও কয়েকটি শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
শিরাজ শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে।
কওম শহরের একটি আবাসিক এলাকাও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাদেশিক কর্মকর্তারা।

এছাড়া বোরোজের্দ শহরের আকাশে নিচু উচ্চতায় যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো লক্ষ্যবস্তু?

সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানের বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে

  • তেহরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
  • শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়

এসব হামলা শিক্ষা অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও উত্তেজনা বৃদ্ধি

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চুক্তির জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা না হলে “ইরানে সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে”।

তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে ইরান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না।

বৈশ্বিক প্রভাব

এই হামলার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


পরিস্থিতি অনিশ্চিত

বর্তমান পরিস্থিতিতে হামলার পূর্ণ মাত্রা, হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের বিভিন্ন শহরে একযোগে বিস্ফোরণ ও হামলার খবর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights