• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন যুগ্ম সচিব পদ থেকে বরখাস্ত

Byadmin

সেপ্টে. ১১, ২০২৫

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর:

দৈনিক আজকের পত্রিকা ও বাংলা ট্রিবিউন-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাবন্দি কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোখলেস উর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একই দিনে প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুলতানা পারভীন (যুগ্ম সচিব, বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সাবেক জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম) গত ২ সেপ্টেম্বর সিনিয়র দায়রা জজ আদালত, কুড়িগ্রামে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৩৯ (২) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা সমীচীন মনে হওয়ায় ওই দিন থেকেই তার বরখাস্ত কার্যকর করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

এর আগে গত ৩ আগস্ট হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এরপর ২১ আগস্ট কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন সুলতানা পারভীন। শুনানি শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে পুনরায় জামিন আবেদন করলে গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) আদালত ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে তিনি বন্দি রয়েছেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।

২০২০ সালের ১৩ মার্চ রাতে কুড়িগ্রাম শহরের একটি সরকারি পুকুরের নাম পরিবর্তন করে ‘সুলতানা সরোবর’ করার খবর প্রকাশের জেরে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে তার বাড়ি থেকে তুলে নেয় জেলা প্রশাসনের একদল কর্মকর্তা। পরে তাকে ধরলা নদীর তীরে নিয়ে হত্যার চেষ্টা, কার্যালয়ে এনে নির্যাতন এবং মাদক রাখার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরদিনই আদালতের নির্দেশে আরিফ জামিনে মুক্তি পান।

পরে তিনি তৎকালীন ডিসি সুলতানা পারভীনসহ একাধিকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ২০২৫ সালে চার্জশিট দাখিল করে, যেখানে সুলতানা পারভীনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights