এ এইচ ইমরান :- গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলার ফরাদপুর এলাকার আব্দুল হামিদ (বাবলু) নামের এক ব্যক্তি এ অভিযোগ করেন। বাবলু ফরাদপুর গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি গত ২৪ আগস্ট স্বশরীরে উপস্থিত থেকে এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ফয়সাল আহমেদ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানদের যোগসাজশে বিভিন্ন দূর্নীতি, অনিয়ম ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানগণের দ্বারা সম্পাদিত বেআইনী কর্মকান্ডকে সমর্থন করে বিনিময়ে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে থাকেন।
অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গত ঈদ উপলক্ষে চলতি বছরের সরকারী ভাবে বরাদ্দকৃত ভি.জি.ডি এবং ভি.জি.এফ চাল সাধারন গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে। গোগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আসলাম আলীকে সরকারি চালসহ হাতেনাতে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ ধরার পরও আইনি পদক্ষেপ গ্রহন না করে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহন করে ছেড়ে দেন। এসময় অনিয়ম করে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাম পুলিশ এবং ভ্যান চালককে কোর্টে চালান করেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনী এবং দন্ডনীয় অপরাধ।
উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহনের পর ২০২১ – ২০২৪ সাল পর্যন্ত বরাদ্দকৃত ভি.জি.ডি এবং ভি.জি.এফ খাতের চাউল বিতরণ কার্যক্রম না করে আত্মসাৎ ও অনিয়মের বিষয়টি সম্পূর্নভাবে জানতেন ইউএনও। জানার পরেও এই কর্মকর্তা কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি। আত্মসাৎকৃত অর্থের ভাগ নিয়ে নিরবতা পালন করেছেন। ঐসময় বিষয়টি স্থানীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার উন্নয়নের জন্য আদায়কৃত রাজস্ব খাতের টাকা কোন প্রকার কাজ না করেই ভুয়া খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। ১% তহবিলের টাকা ইউএনও ভাগ নেয় ২৫%। বাকি টাকা বিভিন্ন ইউনিয়নে ভাগ করে দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে সাধারণ জনগণ ইউএনওকে কিছু বলতে গেলে সাধারণ মানুষকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয় । জনগণ পরোক্ষ্য স্বাক্ষী থাকলেও চেয়ারম্যানরা কর্নপাত করছেন না। এই সমস্ত বিষয়ে চেয়ারম্যানদেরকে অভিযোগ করলে তারা বলেন, আমি কি করছি না করছি সেটা অফিস দেখবে” তোমাদের মাথা ঘামানোর কোন দরকার নাই। দেশের সাধারণ জনগণের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধির এ ধরনের বক্তব্য কোনভাবেই কাম্য নয়। এটা দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং বাস্তবায়ন হওয়া আবশ্যক।
হামিদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির নলীগ্রাম মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ৭৬৬ নং দাগের ১.৭০ একর পুকুর গত ১০ এপ্রিল থেকে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সমর্থিত ব্যক্তিরা খনন করিতেছে যা সম্পূর্ন বেআইনী। ঐ পুকুরের খনন কাজ বন্ধের জন্য গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হলেও তিনি কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি।, বিনিময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুকুর খননকারী আওয়ামীলীগ সমর্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে পুকুর খননের কাজ অব্যহত রেখেছেন। যা দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
বক্তব্যের জন্য গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।
