• বৃহঃ. আগ ২০, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

সাচিং প্রু জেরীকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার গুঞ্জন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

ByShirso Aparadh

আগ ২০, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল ও নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা পরবর্তী সময়ে গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পার্বত্য চট্টগ্রামের দায়িত্বে কে আসছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।

সাচিং প্রু জেরীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের দাবি, তাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বঙ্গভবনে তাঁর শপথ হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।

সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী বোমাং রাজপরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা অং শৈ প্রু চৌধুরীও বোমাং রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান-৩০০ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাচিং প্রু জেরী। পার্বত্য অঞ্চলের অপর দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে তিনি চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা অঞ্চলটির প্রশাসনিক সমন্বয় ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন, পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে সাচিং প্রু জেরীকে মন্ত্রী করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফলে তাঁর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আপাতত রাজনৈতিক মহলের আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা বঙ্গভবনের ঘোষণার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights