• মে ২১, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

মুখস্থ বিদ্যা নয়, মেধা ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছে সরকার — শিক্ষা মন্ত্রী

ByShirso aparadh

মে ২০, ২০২৬

শেখ ফরিদ উদ্দিন :
বিশ্বের শিক্ষা মন্ত্রীদের সবচেয়ে বড় বার্ষিক সম্মেলন -এর প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রী । এসময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মুখস্থ বিদ্যার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে মেধা, দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

ফোরামে বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের শিক্ষামন্ত্রীরা অংশ নেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা শিবলী সাদিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০ মে অনুষ্ঠিত প্লেনারি সেশনে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক অস্থিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী -এর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং সেই গণরায় শিক্ষা ব্যবস্থায় অর্থবহ পরিবর্তনের দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে।

মন্ত্রী বলেন,
“দেশের জনগণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তবমুখী পরিবর্তন আনা। শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও মর্যাদার পথ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

তিনি মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে “আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা” ধারণার ওপর জোর দেন। নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এবং মানসিক বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান।

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সক্ষম করতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণ, ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুল ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ধাপে ধাপে দেশের জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষকদের “পরিবর্তনের অগ্রদূত” উল্লেখ করে মন্ত্রী সরকারের “ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব” কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তিকে শিক্ষকদের সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়। প্রযুক্তি যেন শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়ানোর পরিবর্তে তা কমিয়ে আনে—সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights