• বুধ. সেপ্টে ২, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

BySarker

জুলা ১৩, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা বন্যাকবলিত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ১১ জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিটি জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করছে।

মন্ত্রী বলেন, কোথাও যেন কোনো রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, সে জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে অতিরিক্ত মেডিকেল টিমও পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, একটি হাসপাতালের নিচতলায় বন্যার পানি প্রবেশ করলে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাসামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন, যাতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না হয়।

সাপে কাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাপে কাটা ৯৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সবাই সুস্থ রয়েছেন।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, বর্তমানে এক হাজারের বেশি ভায়াল অ্যান্টিভেনম কেন্দ্রীয়ভাবে মজুত রয়েছে। জেলা পর্যায়ে সংরক্ষিত আছে আরও ২১ হাজার ভায়াল এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত ২৫ হাজার ভায়াল যুক্ত হবে। ফলে অ্যান্টিভেনমের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।

তিনি বলেন, বন্যাপরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ, ওআরএস, স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কল সেন্টার ১৬২৬৩ এবং স্বাস্থ্য বাতায়নের মাধ্যমে বন্যাকবলিত এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

By Sarker

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights