• শনি. আগ ৮, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

জুলাই শহীদ-আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ByShirso Aparadh

আগ ৮, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের মানুষের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানুষ নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই জুলাইয়ের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। আবার কারও স্বজন ওই আন্দোলনে অংশ নিয়ে জীবন দিয়েছেন বা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশের মানুষ আজ একটি মুক্ত পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জীবন দিয়েছেন, শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ছিল, আর তা হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।

রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বাস্তবতার আলোকে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। কী পেলাম সেটি বড় বিষয় নয়; বরং দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

১০ শহীদ-আহত পরিবারের সদস্য পেলেন চাকরির নিয়োগপত্র

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

নিয়োগপত্র পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী।

এ ছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারও নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা এবং আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু অনুষ্ঠানের তথ্য জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights