“হলুদ সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি চলছে” — পিটার চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক, দাউদকান্দি (কুমিল্লা):
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে তা না পেয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দাউদকান্দি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নবনিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক শওগাত চৌধুরী পিটার।
মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ১০টায় দাউদকান্দি পৌর সদরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
লিখিত বক্তব্যে পিটার চৌধুরী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দাউদকান্দি পৌর সদরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং সম্প্রতি পৌর প্রশাসক তাকে দাউদকান্দি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, তার প্রয়াত বাবা মরহুম আবদুল লতিফ চৌধুরী ছিলেন স্বাধীনতা পূর্বকাল থেকে এলাকার একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী, বিএনপি নেতা ও সমাজসেবক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, “দাউদকান্দি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সংবাদ প্রকাশের কথা বলে কথিত সাংবাদিক হোসাইন মোহাম্মদ দিদার আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ‘মেঘনা অনলাইন’ নামের একটি পোর্টালে আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিক পরিচয়ধারী ওই ব্যক্তি তার অফিস স্টাফ মো. তারেকের কাছেও চাঁদা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পিটার চৌধুরী বলেন, “সাংবাদিকতার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, অপপ্রচার ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে একটি চক্র। এদের কারণে প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকরাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন।”
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, হোসাইন মোহাম্মদ দিদার পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা এবং বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে দাউদকান্দি এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পিটার চৌধুরী বলেন, “আমি তার প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ করলে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে এবং দাবি করে আমি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছি। অথচ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও নাটকীয় সাজানো অপপ্রচার ছাড়া কিছুই নয়।”
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি ও অপপ্রচার বন্ধে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সমাজে বিশৃঙ্খলা বাড়বে এবং গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পিটার চৌধুরীর অভিযোগের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
