
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের বিল ছাড়াতে কমিশন দাবি, বিল আটকে রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন একজন সরবরাহকারী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সিএমএসডিতে কোনো পণ্য বা যন্ত্রপাতি সরবরাহের পর বিল ছাড়াতে গেলে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করেন আব্দুর রাজ্জাক। কমিশনের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দীর্ঘদিন বিল আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ২০ জুলাই মেডিকিট করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী দুদকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্য তুলে ধরেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, রাজধানীর মিরপুরে স্ত্রীর নামে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের দুটি ফ্ল্যাট, পূর্বাচলে দুটি প্লট এবং নিজের ও স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৩ কোটির বেশি টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রামে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাগানবাড়ি এবং জেলা শহর ও নিজ এলাকায় প্রায় ৩০ বিঘা জমি কেনার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সিএমএসডির বিল ছাড়ানোর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আব্দুর রাজ্জাকের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। প্রতি ঈদে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নগদ অর্থ ও উপহার দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গত রমজানের ঈদে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়, বিল ছাড়াতে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সরাসরি ২০ শতাংশ অর্থ দাবি করা হয়। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নিজের জন্য এবং বাকি ৫ শতাংশ অন্যদের দেওয়ার কথা বলা হয়। কেউ এতে আপত্তি জানালে তার বিল আটকে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অভিযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ৭৯ কোটি টাকার একটি কথিত ভুয়া বিল ছাড়ানোর এবং সেখান থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই অর্থ ব্যবহার করে রাজধানীতে ফ্ল্যাট ও পূর্বাচলে প্লট কেনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২২ আগস্টের আদেশে আব্দুর রাজ্জাককে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি), তেজগাঁও, ঢাকায় প্রেষণে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি সিএমএসডির কেনাকাটার বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন দাবি এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সরবরাহকারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সিএমএসডির ভেতরে প্রতিবাদ হলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিএমএসডির অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চাকরিজীবনের শুরু থেকেই সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদকের তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের বৈধ উৎস, বিল ছাড়ের প্রক্রিয়া এবং কথিত কমিশন লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
