ঢাকা, ১৯ মে ২০২৬ (বাসস):
দেশের গণমাধ্যম খাতকে আরও জবাবদিহিমূলক, পেশাদার ও যুগোপযোগী করতে আগামী জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যেই নতুন গণমাধ্যম নীতিমালা ও একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন এই নীতিমালা ও কমিশনের মাধ্যমে সাংবাদিক, গণমাধ্যম মালিক এবং সংবাদপত্র কর্মচারী—সকল পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। একইসঙ্গে অপসাংবাদিকতা, ভুয়া তথ্য প্রচার এবং গণমাধ্যম ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডকে আইনি কাঠামোর আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি মালিকপক্ষকেও সুরক্ষা ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তাই উভয় পক্ষের স্বার্থ সমন্বয় করে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।”
জহির উদ্দিন স্বপন জানান, সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, অপসাংবাদিকতা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরিতে কিছু গণমাধ্যমের অপব্যবহারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত আইনে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশন চালু হলে এ ধরনের আইনি সীমাবদ্ধতা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাও নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অপব্যবহার করে বিভ্রান্তি, উসকানি বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকার সচেতন।”
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যম ব্যবহার করেছিল, তাদের কর্মকাণ্ড আজও গণমাধ্যম আইনের আওতায় স্পষ্টভাবে বিচারযোগ্য হয়নি। ভবিষ্যতে কমিশনের মাধ্যমে এসব বিষয়ও আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস আমদানিকে উৎসাহিত করতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব বাস চালু করতে পারলে বহু অভিভাবককে আলাদা গাড়ি ব্যবহার করতে হবে না। এতে নগরীর যানজট ও বায়ুদূষণ উভয়ই কমবে। একইসঙ্গে গণপরিবহনের জন্য কত আসনের বাস শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা যাবে, সে বিষয়ে পৃথক নীতিমালার কাজও শুরু হয়েছে।
সবশেষে তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “একটি দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও আধুনিক গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ও সাংবাদিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
