
বরিশাল প্রতিনিধিঃ
বিগত ১৭ বছরে বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন এবং সাত শতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদীতে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গুম হওয়া নেতাকর্মীদের স্বজনেরা এখনো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিশারি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন। তার প্রতিটি কাজে বেগম খালেদা জিয়া ছায়াসঙ্গী হিসেবে পাশে ছিলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া নাবালক দুই সন্তানকে নিয়ে সংসারের পাশাপাশি বিএনপির হাল ধরেন উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান বলেন, তখন দলটির অবস্থাও ছিল অত্যন্ত কঠিন। দলের সিনিয়র নেতারা তাকে বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, একদিকে দুই সন্তান ও সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে বিএনপির নেতৃত্ব—দুই দায়িত্ব একসঙ্গে নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জুলাইকে ছোট করে দেখতে চাই না। জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে বিগত ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যে সূচনা হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায়।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ ও ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
