
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
২৪ জুন, ২০২৬
রাজধানী ঢাকা যেন ক্রমেই অপরাধের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি থেকে শুরু করে মাদক ও সুসংগঠিত পতিতাবৃত্তির মতো অপরাধের গ্রাফ এখন ঊর্ধ্বমুখী। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সুধীসমাজের মতে, এই অপরাধের পেছনে এবার যোগ হয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। বিগত সরকারের নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘লীগ’ এর প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা এখন খোলস বদলে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির মতো দলগুলোর কিছু সুবিধাবাদী নেতাকে বিপুল অঙ্কের অর্থ দিয়ে পদ-পদবি বাগিয়ে নিচ্ছেন। ফলে ‘পুরোনো চাল নতুন ভাতে’র মতো তারা আরও শক্তিশালী অবস্থানে গিয়ে ঢাকা শহরের অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন।
অপরাধের নতুন সমীকরণ: পদ কেনাবেচার নেপথ্য কাহিনী
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নিষিদ্ধ লীগের বড় একটা অংশ আত্মগোপনে গেলেও তাদের অবৈধ উপার্জনের টাকা রয়ে গেছে অক্ষত। গ্রেফতার এড়াতে এবং নিজেদের অপরাধের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তারা মাঠপর্যায়ের কিছু রাজনৈতিক নেতাকে টার্গেট করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক স্থানীয় ক্ষুব্ধ নেতা জানান:
“যারা গত বছরও আমাদের ছেলেদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা এখন লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের কমিটিতে জায়গা পাচ্ছে। এদের শেল্টার দিচ্ছে আমাদেরই কিছু লোভী নেতা। ফলে মাঠপর্যায়ের ত্যাগী কর্মীরা কোণঠাসা আর অপরাধীরা বহাল তবিয়তে।”
একই চিত্র দেখা গেছে জামায়াত ও এনসিপির কিছু স্থানীয় উপ-কমিটি ও অঙ্গসংগঠনের ক্ষেত্রেও। নিষিদ্ধ লীগের অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই ‘দলবদলু’ সিন্ডিকেট এখন রাজধানীর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা এবং পুরান ঢাকার জুয়া, মাদক, ফুটপাত চাঁদা এবং পতিতাবৃত্তির স্পটগুলো একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে।
বেপরোয়া মাদক ও পতিতা ব্যবসা
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও এবং গুলশান-বনানীর কিছু অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছে রমরমা দেহব্যবসা ও মাদকের কারবার। আগে যেখানে এসব স্পট নির্দিষ্ট কিছু মহলের ছত্রচ্ছায়ায় চলত, এখন সেখানে নতুন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে (কিংবা ম্যানেজ করা হচ্ছে)। সিন্ডিকেটের সদস্যরা এখন আগের চেয়েও বেশি বেপরোয়া, কারণ তাদের ওপর এখন নতুন রাজনৈতিক ‘বর্ম’ রয়েছে।
সাধারণ জনগণের বক্তব্য: ক্ষোভ ও হতাশা
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের কথা।
- মিরপুরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রাইহান আহমেদ বলেন: “ভেবেছিলাম দিন বদলাবে। কিন্তু দেখছি শুধু নেতার নাম বদলেছে, চাঁদাবাজির লোকগুলো একই আছে। আগে যে লীগের পরিচয়ে চাঁদা নিত, এখন সে অন্য দলের বড় নেতার সাথে ছবি তুলে এসে দ্বিগুণ চাঁদা দাবি করছে। প্রতিবাদ করার জায়গা নেই।”
