নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা-তে স্বাস্থ্য সহকারী (টিকাদানকারী) হুমায়ুন কবির মিলনের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
💰 সহকর্মীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৩০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ৫,৩০০ থেকে ৫,৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নতুন হওয়ায় তারা নিয়ম-কানুন না জানায় ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, “আমরা নতুন যোগদান করেছি, কিছু বুঝি না। ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।”
এ সংক্রান্ত কিছু অডিও ক্লিপও ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
⛔ কর্মস্থলে অনুপস্থিতির অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীফপুর ইউনিয়ন-এর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত এই স্বাস্থ্য সহকারী দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারিভাবে জরুরি অবস্থা জারি থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একজন মাত্র কর্মী—এমন তথ্য জানিয়েছেন সহকর্মীরা।
🏥 পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন বিভাগে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চালান।
এছাড়া সরকার দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় আহ্বায়ক কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো দলীয় পদ বা সংশ্লিষ্টতা নেই।
📄 অভিযোগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীরা নোয়াখালীর সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর-এর বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি খানের কাছেও জানানো হয়েছে।
⚖️ তদন্তের দাবি
অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
