• বৃহঃ. আগ ২০, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

বিসিআইসির সিওপি শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

ByShirso Aparadh

আগ ২০, ২০২৬

শেখ ফরিদ উদ্দিনঃ

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কর্মচারী প্রধান (সিওপি) আ ন ম শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা, প্রভাব খাটানো, নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরাম।

বিসিআইসি চেয়ারম্যানের কাছে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মতিন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদনে এসব অভিযোগ করা হয়। আবেদনে সংগঠনটি দাবি করে, পরিচয়বিহীন ও উড়ো চিঠির ভিত্তিতে বিসিআইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

ফোরামের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, কোনো অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ, ঘটনা, সময়, স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই না করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। তাঁদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের আগে সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

লিখিত আবেদনে ১৯৯৩ সালের ৫ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা একটি পরিপত্রের বিষয় উল্লেখ করে ফোরামের নেতারা দাবি করেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া বেনামি বা পরিচয়বিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

ফোরামের অভিযোগ, কর্মচারী প্রধান শরিফুল আলম ওই নির্দেশনার যথাযথ অনুসরণ না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে বিসিআইসির কর্মপরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগও করেছে ফোরাম। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে বিসিআইসির বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথি বা প্রমাণ রয়েছে, তা আবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

ফোরামের নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শরিফুল আলম দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে বিসিআইসিতে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তাঁদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রভাব ধরে রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

সংগঠনটির অভিযোগ, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা ও অর্থসহায়তার বিষয় নিয়েও বিসিআইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং ভুয়া ভ্রমণ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নিজ এলাকা কুড়িগ্রামে বিলাসবহুল বাণিজ্যিক রিসোর্ট নির্মাণের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট নথি বা স্বাধীন তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ফোরামের নেতৃবৃন্দের আরও দাবি, বিসিআইসির আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ এবং বদলির ক্ষেত্রেও শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কেপিএমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও বদলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

অভিযোগপত্রে বিসিআইসির চেয়ারম্যানের কাছে অজ্ঞাতনামা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির দাপ্তরিক আদেশ প্রত্যাহার, পরিচয়বিহীন অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাভাবিক ও কর্মবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

ফোরামের নেতারা বলেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সরকারি বিধি-বিধান নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন প্রকৃত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে নিরপরাধ ও সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি থেকেও সুরক্ষা দেওয়া যাবে।

তবে শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, নিয়োগ-বদলির রেকর্ড, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারী সংগঠনটি জানিয়েছে, শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও বদলি, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত আরও কিছু অভিযোগের তথ্য তারা সংগ্রহ করছে। এসব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights