
ডেস্ক রিপোর্টঃ
বিশ্বকাপ এলেই বদলে যায় বাংলাদেশের চিরচেনা দৃশ্য। শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে গ্রামের অলিগলি—সবখানেই উড়তে থাকে আকাশি-সাদা পতাকা। বাড়ির ছাদ, দোকানের সামনে, এমনকি পুরো মহল্লাও সেজে ওঠে আর্জেন্টিনার রঙে। গভীর রাত কিংবা ভোর—ঘুমকে উপেক্ষা করে লাখো মানুষ টেলিভিশনের সামনে বসেন প্রিয় দলের খেলা দেখতে। গোল হলেই আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
মানচিত্রে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার দূরত্ব প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের সময় সেই দূরত্ব যেন মিলিয়ে যায়। দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠে এক অনন্য আবেগের সেতুবন্ধন।
বাংলাদেশ কখনো ফুটবল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেনি। তবু আর্জেন্টিনাকে ঘিরে এ দেশের মানুষের উন্মাদনা বিশ্বজুড়েই আলোচিত। জার্সি পরে খেলা দেখা, বড় পর্দায় বন্ধুদের সঙ্গে উল্লাস, জয়ের পর আনন্দমিছিল কিংবা পরাজয়ের বেদনায় একসঙ্গে কষ্ট ভাগ করে নেওয়া—সবই এখন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সংস্কৃতির অংশ।
এই ভালোবাসার শেকড় অনেক গভীরে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয় এবং দিয়েগো ম্যারাডোনার অনন্য নৈপুণ্য অসংখ্য বাংলাদেশির হৃদয় জয় করে। এরপর ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপ সেই আবেগকে আরও দৃঢ় করে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসা।
দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে আবারও বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। সেই জয়ের আনন্দে বাংলাদেশের শহর-গ্রামজুড়ে নেমে আসে উৎসবের আমেজ। রাতভর চলে উল্লাস, আনন্দমিছিল আর উদ্যাপন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ভরে যায় শুভেচ্ছা ও বিজয়ের বার্তায়। যেন আর্জেন্টিনার জয় মানেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদেরও জয়।
বাংলাদেশের এই ব্যতিক্রমী সমর্থন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশ্বকাপ চলাকালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বারবার উঠে আসে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-প্রেমের গল্প। পরে দুই দেশের সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ হয়।
ফুটবল এ দেশের মানুষের কাছে শুধু একটি খেলা নয়; এটি আবেগ, ঐক্য এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ। তাই বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ রঙিন হয়ে ওঠে আকাশি-সাদায়। দূরত্ব তখন আর কিলোমিটারে মাপা যায় না—মাপা যায় হৃদয়ের টানে। আর সেই ভালোবাসার নাম—আর্জেন্টিনা।
